ভিয়েতনামের ‘ব্যাম্বু ডিপ্লোম্যাসি’
এ মাসের শুরুর দিকে হ্যানয় সফর করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
এটাই তার এ বছরে প্রথম এশিয়ার কোনো দেশ সফর। এ সফরের সময় অভিন্ন ভবিষ্যত বিষয়ে একটি কমিউনিটি গড়ে তুলতে একমত হয় ভিয়েতনাম ও চীন। পরিবহন বিষয়ক অবকাঠামো, বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অর্থনীতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ৩৬টি ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করে দুই দেশ। ব্যাপক বিস্তৃত প্রতিশ্রুতিসহ একটি যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করে তারা। চীন হলো ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের গুরুত্বপূর্ণ আমদানির উৎস। কিন্তু দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বিরোধে উভয় কমিউনিস্ট দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তা অব্যাহত থাকে গত মে মাস পর্যন্ত। আরেকটি পানিপথ- যার দাবিদার ফিলিপাইন, তার দিকে মনোযোগ দিয়েছে বেইজিং। ফলে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে দৃষ্টি সরে গেছে।
সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের একটি কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ উন্নত করে ভিয়েতনাম। একে বলা হয় ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় অংশীদারিত্ব। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ সময়ে হ্যানয় সফরে আসেন। এর আগে অর্ধপরিবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের সহযোগিতার যে ঘোষণা ছিল তা তুলে নেয়া হয়। ভিয়েতনামি পণ্যের শীর্ষ আমদানিকারক যুক্তরাষ্ট্র। নিরবচ্ছিন্ন বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন বজায় রাখতে এবং দক্ষিণ চীন সাগরে চীনকে নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে কাজে দিচ্ছে এ বিষয়টি।
নভেম্বরে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক আধুনিকায়ন করেছে ভিয়েতনাম। ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ভো ভ্যান থুওং এ সময় টোকিও সফরে যান। তারা নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে একমত হন। ভিয়েতনামে আছে জাপানের ক্যানন, হোন্ডা, প্যানাসোনিক এবং ব্রিজস্টোনের মতো বহুজাতিক কোম্পানির বিনিয়োগ।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ চুক্তি হয় দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের মধ্যে। ওই সময় ভিয়েতনামের তখনকার প্রেসিডেন্ট নগুয়েন সুয়ান ফুক সিউল সফরে গিয়েছিলেন। এ সময় দৃষ্টি দেয়া হয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায়। ভিয়েতনামে বৈদেশিক বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় একটি উৎস হলো দক্ষিণ কোরিয়া। সেখানে এককভাবে বিদেশি সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স। এখানেই তারা তাদের স্মার্টফোনের অর্ধেক প্রস্তুত করে। জুনে দুই দেশ অতিরিক্ত ১৭টি চুক্তি করে। এর মধ্যে আছে নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ বিষয়ক।